দেশ -বৈশাখ পেরিয়ে জৈষ্ঠ্য পড়তেই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়তে শুরু করেছে গোটা দেশ। বর্ষা আসতে এখনও অনেক দেরি, তার আগেই আগুনঝরা গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এসেছে আবহাওয়া সংক্রান্ত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। একিউআই ডট ইন-এর লাইভ তাপমাত্রা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ১০০টি শহরের সবকটিই এখন ভারতের।
মঙ্গলবার দুপুরের হিসেব অনুযায়ী, এই ১০০টি শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। রাজধানী দিল্লিতে গত দু’বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মে মাসের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে পারদ ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
শুধু দিল্লিই নয়, তালিকায় রয়েছে ফরিদাবাদ, চণ্ডীগড়, আগরা, অযোধ্যা, গোয়ালিয়র, কোটা এবং রায়পুরের মতো শহরও। এই সমস্ত জায়গাতেই ভয়ংকর তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অস্বাভাবিক গরমে কার্যত হাঁসফাঁস করছেন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, উত্তরাখণ্ডের হিমালয় সংলগ্ন শহর হরিদ্বারও বিশ্বের উষ্ণতম শহরগুলির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। সাধারণত তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত এই শহরেও এবার রেকর্ড গরম পড়েছে।
মঙ্গলবার ভাটিন্ডা, পঠানকোট, বরেলি, ঝাঁসি এবং কইথলের মতো শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছে যায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের মথুরা, ছত্তিশগড়ের ভিলাই এবং মহারাষ্ট্রের নানদেড় ও অকোলাতেও তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে।
কলকাতা এই মুহূর্তে বিশ্বের উষ্ণতম ১০০ শহরের তালিকায় না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের দুই শহর আসানসোল ও বর্ধমান সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বাংলাতেও তাপপ্রবাহের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে বহু জায়গায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা হচ্ছে দুপুরের দিকে, বাড়ছে হিটস্ট্রোক ও জলশূন্যতার আশঙ্কাও।
এদিকে বুধবার নতুন করে উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় মৌসম ভবন। আগামী কয়েকদিনও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হবে না বলেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষা আসার আগে আরও কয়েকদিন তীব্র গরমের সঙ্গে লড়াই চালাতে হবে দেশবাসীকে।




















