দিল্লী – রাজ্যে সরকার গঠনের পর এবার প্রথমবার দিল্লি সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র বারো দিনের মাথায় তাঁর এই দিল্লি সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই তাঁর রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, এই প্রথম দিল্লি সফরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে। সকালে তিনি প্রথমে বেলুড় মঠে গিয়ে পুজো দেবেন। এরপর সেখান থেকে সরাসরি হাওড়া জেলা শাসকের দফতরে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
হাওড়ার বৈঠক শেষে দমদম হয়ে তিনি রওনা দেবেন অন্ডাল বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে। অন্ডাল পৌঁছে দুর্গাপুরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে দুপুর দু’টোয় জঙ্গলমহলের পাঁচ জেলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে বসবেন তিনি। সেই বৈঠকে উন্নয়ন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর সাঁইথিয়া এলাকায় একটি ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সমস্ত কর্মসূচি শেষ করে অন্ডাল থেকেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক। সেখানে রাজ্যের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যে মাত্র ছয় জন মন্ত্রী রয়েছেন, যদিও সংবিধান অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪৪ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন। ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ দফতর এখনও মন্ত্রীবিহীন অবস্থায় রয়েছে এবং সেগুলির দায়িত্ব আপাতত মুখ্যমন্ত্রীকেই সামলাতে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, তাড়াহুড়ো না করে সবদিক বিচার করেই মন্ত্রী নির্বাচন করতে চাইছে দল। সেই কারণেই দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কাদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে, সেই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি সফরেই সেই তালিকায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির সংগঠনগত রীতিনীতি অনুযায়ী, মন্ত্রীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয়। এবারও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এই হাইপ্রোফাইল সফরকে ঘিরে দলের অন্দরে তৎপরতাও বেড়েছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পাশাপাশি আগামীকাল দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে সুকান্ত মজুমদারেরও। ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ ক্রমশ চড়ছে।




















