রাজ্য – নবান্ন সভাঘর থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার তিনি জানান, রাজ্যে চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এতদিন কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি এই আইন বাংলায় কার্যকর হয়নি বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন থেকেই সেই আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার নবান্ন সভাঘরে বিএসএফের ডিজির সঙ্গে সীমান্তে জমি হস্তান্তর নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ডিজি, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে আগেই আইন তৈরি করেছিল এবং গত বছর দিল্লির তরফে বাংলাকে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পূর্বতন সরকার সেই আইন কার্যকর করেনি। বর্তমান সরকার আজ থেকেই তা কার্যকর করছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে পুলিশ চিহ্নিত করে গ্রেফতার করবে। তারপর তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে বৈঠক হবে এবং পরে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ওই ব্যক্তিদের হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে যাঁরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে, বিশেষ করে বাংলায় প্রবেশ করেছেন, তাঁদের আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র আওতায় থাকা হিন্দু, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান, পার্সি এবং বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে না। একইসঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদেরও অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায় ধরা হবে না বলে জানান তিনি।
এর পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বিএসএফকে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং বুধবার সেই প্রক্রিয়া শুরু হল।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত বিএসএফকে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ হবে। প্রশাসনের আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই জমির একটি অংশ হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বিএসএফ বহু আগেই রাজ্যের কাছে জমি চেয়েছিল, কিন্তু আগের সরকার সেই জমি দেয়নি। এর ফলে রাজ্য নিরাপত্তার দিক থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার তুষ্টিকরণের রাজনীতি করেছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।



















