তোলাবাজি, হামলা ও পোস্ট পোল হিংসা মামলায় একের পর এক গ্রেফতারি, চাপে তৃণমূলের একাধিক নেতা-কাউন্সিলর

তোলাবাজি, হামলা ও পোস্ট পোল হিংসা মামলায় একের পর এক গ্রেফতারি, চাপে তৃণমূলের একাধিক নেতা-কাউন্সিলর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য -;রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তোলাবাজি, হামলা, পোস্ট পোল হিংসা থেকে শুরু করে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এবার গ্রেফতার হলেন বিধাননগর কর্পোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দারের বিরুদ্ধে একাধিক তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি তদন্তকারী সূত্রের। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পেশ করবে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এর আগে বাগুইআটি সংলগ্ন তেঘড়িয়ার রঘুনাথপুর এলাকার প্রোমোটার কিশোর হালদারকে মারধর ও তোলাবাজির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননীকে। বুধবার তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ।
অভিযোগ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রঘুনাথপুর এলাকায় প্রোমোটার কিশোর হালদারের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার পর বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে বন্দুকের বাট ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন ওই প্রোমোটার। এরপর তিনি বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ।
এই মামলায় এর আগেই ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে একই মামলায় গ্রেফতার হন অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননী।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর ২ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০২১ সালের পোস্ট পোল ভায়োলেন্স মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে দত্তপুকুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। বুধবার তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়।
এছাড়াও বরানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বাসব দাশগুপ্ত ওরফে দাদনকে প্রকাশ্যে কান ধরে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি কাজকর্ম ও দুর্ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখেই প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর।
জানা গিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বরানগর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর প্রতিনিধি ছিলেন বাসব চন্দ্র ঘোষ ওরফে দোদন। একইসঙ্গে কাঞ্চন দে নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, তিনি বরানগর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর প্রতিনিধি আলপনা নাহার ঘনিষ্ঠ।
একের পর এক এইসব ঘটনায় রাজ্যের শাসকদলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। যদিও এখনও পর্যন্ত দলীয়ভাবে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top