মোদীকে ঝালমুড়ি খাইয়ে জনপ্রিয়তা, এবার প্রাণনাশের হুমকি! আতঙ্কে ঝাড়গ্রামের ‘বিহারীবাবু’

মোদীকে ঝালমুড়ি খাইয়ে জনপ্রিয়তা, এবার প্রাণনাশের হুমকি! আতঙ্কে ঝাড়গ্রামের ‘বিহারীবাবু’

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


ঝাড়গ্রাম – বিধানসভা ভোটের প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসে যাঁর হাতের তৈরি ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সেই ‘বিহারীবাবু’ খ্যাত ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউ এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে একের পর এক খুনের হুমকি ফোন ও বার্তা আসছে তাঁর কাছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিক্রমের দোকানের আশপাশে সাদাপোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও আতঙ্ক কাটছে না সাউ পরিবারের।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৯ এপ্রিল নির্বাচনী প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা শেষে সড়কপথে ফেরার সময় ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড় এলাকায় আচমকাই থেমে যায় প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। সেখানেই বিক্রমকুমার সাউয়ের ‘চবনলাল স্পেশ্যাল ঝালমুড়ি’ দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খান মোদী। শুধু তাই নয়, পরে বিদেশ সফরেও ঝাড়গ্রামের এই ঝালমুড়ির প্রশংসা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই ঘটনা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই বিক্রমের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী জয়ের পর দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা রাজ্যজুড়ে ঝালমুড়ি বিলি করে বিজয় উৎসবও পালন করেন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি পোস্ট করেছিলেন।
তবে সেই জনপ্রিয়তাই এখন বিক্রমের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ। বিহারের আদি বাসিন্দা বিক্রমকুমারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তাঁকে ধারাবাহিকভাবে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রথমদিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও সম্প্রতি ভিডিও কলে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সরাসরি প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন বিক্রম। বর্তমানে তাঁর পরিবার এতটাই আতঙ্কে রয়েছে যে সংবাদমাধ্যমের সামনেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছেন না তাঁরা।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ এবং সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা। যে সব আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ফোন ও হুমকিবার্তা এসেছে, সেগুলি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত চালানো হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি খাইয়ে রাতারাতি পরিচিতি পাওয়া ঝাড়গ্রামের ‘বিহারীবাবু’ এখন নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top