রাজ্য – আবারও ধাক্কা জ্বালানির বাজারে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তৃতীয়বার বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। শনিবার থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে অপরিশোধিত তেলের আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়াতেই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন দামে শনিবার থেকে দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৫১ পয়সা। সেখানে ডিজেলের দাম হয়েছে ৯২ টাকা ৪৯ পয়সা। কলকাতায় পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা ৬৪ পয়সা এবং ডিজেলের দাম পৌঁছেছে ৯৭ টাকা ২ পয়সায়।
মুম্বইয়ে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম এখন ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা। সেখানে ডিজেলের দাম ৯৫ টাকা ২ পয়সা। অন্যদিকে চেন্নাইয়ে পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৫ টাকা ৩১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম হয়েছে ৯৬ টাকা ৯৮ পয়সা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৫ মে থেকে তিন দফায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হল। প্রথম দফায় ১৫ মে এক লাফে প্রতি লিটারে ৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১৯ মে ফের প্রায় ৯০ পয়সা বৃদ্ধি পায়। শনিবারের নতুন বৃদ্ধির পর সব মিলিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেল।
তেল সংস্থাগুলির বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে। বিশ্ববাজারে ক্রমাগত তেলের দাম বাড়ায় সেই চাপ ধাপে ধাপে দেশের খুচরো বাজারেও পড়ছে। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কে মূল্যবৃদ্ধি না করে ধীরে ধীরে দাম বাড়ানোর পথেই হাঁটছে সংস্থাগুলি।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কলকাতার মতো মহানগরে পেট্রলের দাম আগেই ১১০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়েছিল। নতুন বৃদ্ধির ফলে সেই চাপ আরও বেড়েছে। পরিবহণ খরচ বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ী মহলেও। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারদর, পণ্য পরিবহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের উপর।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনেও জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির তুলনায় ভারতে এখনও নিয়ন্ত্রিতভাবেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে।
এখন নজর বিশ্ববাজারের দিকে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে কী পরিবর্তন হয়, তার উপরই নির্ভর করবে দেশের জ্বালানির বাজারে আরও মূল্যবৃদ্ধি হবে কিনা।




















