খেলা – ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সদ্য আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সেই আনন্দের আবহ কাটতে না কাটতেই ভারতীয় ফুটবলে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আগামী মরশুমে আদৌ আইএসএল হবে তো? এই আবহেই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে একযোগে কড়া বার্তা দিল মোহনবাগান-সহ আইএসএলের একাধিক ক্লাব।
যৌথ বিবৃতিতে ক্লাবগুলি জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে চলতি মরশুমের পর তারা লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবে। তবে এই যৌথ বিবৃতিতে সই করেনি ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং এবং জামশেদপুর এফসি।
ক্লাবগুলির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারতীয় ফুটবলকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান মরশুমের পর লিগের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছি।”
দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ক্লাব আর্থিক এবং সাংগঠনিক নানা সমস্যার মধ্যেও ভারতীয় ফুটবলে বিনিয়োগ করে চলেছে। ক্লাবগুলির অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত লিগের ক্ষেত্রে কোনও স্থায়ী কাঠামোগত নিশ্চয়তা নেই। পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্বচ্ছতার অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে।
ক্লাবগুলির দাবি, “সঠিকভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে যে আর্থিক ও পরিচালনাগত প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন, তা বজায় রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।” তাদের মতে, ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান অবস্থার তুলনায় আরও অনেক বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ যাঁরা এতদিন ধরে লিগ গড়ে তুলেছেন, বিনিয়োগ করেছেন এবং জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁদেরই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগতে হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি আর্থিকভাবে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল লিগ অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই কারণে ক্লাবগুলির তরফে একটি নতুন পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত এবং গঠনমূলক। এআইএফএফের অন্যান্য প্রস্তাবের মতোই এই পরিকল্পনাকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।”
ফেডারেশনের কাছে ক্লাবগুলির আবেদন, যারা লিগ পরিচালনা করছে বা আর্থিকভাবে সাহায্য করছে, তাদের সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হোক।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন আগামী ২৩ মে স্পেশাল জেনারেল বডির বৈঠক ডেকেছে। সেখানে দেশের ফুটবল সংস্থার সংবিধান এবং নতুন কমার্শিয়াল পার্টনার হিসেবে জিনিয়াস স্পোর্টসকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ঠিক তার আগেই ক্লাবগুলির এই কড়া অবস্থান কার্যত চাপে ফেলেছে ফেডারেশনকে।
এর আগেও একাধিক ক্লাব চিঠি দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে চুক্তি হলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কমার্শিয়াল পার্টনার নির্বাচন নিয়েও নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ক্লাবগুলির এই যৌথ বিবৃতি ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন নজর, এই সংকট মোকাবিলায় ফেডারেশন কী পদক্ষেপ নেয়।




















