পশুবলি নিষিদ্ধ ইস্যুতে হুমায়ুনকে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার, “ভারতে থাকতে হলে এদেশের নিয়ম মানতেই হবে”

পশুবলি নিষিদ্ধ ইস্যুতে হুমায়ুনকে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার, “ভারতে থাকতে হলে এদেশের নিয়ম মানতেই হবে”

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – রাজনৈতিক পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সাক্ষী থেকেছেন রাজ্যবাসী। তার মধ্যে অন্যতম ধর্মীয় কারণে প্রকাশ্যে পশুবলি বা কুরবানি প্রথা বন্ধের সিদ্ধান্ত। গত ১৩ মে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে রাজ্যে প্রকাশ্যে পশুবলি বন্ধের নির্দেশ জারি করে নতুন বিজেপি সরকার। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।
এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক তথা প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মাচরণের অধিকারের উপর আঘাত। তবে সেই অভিযোগকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অগ্নিমিত্রা বলেন, “হুমায়ুন কবীর যদি বাংলায় থাকতে চান, তাহলে সরকারি নিয়ম মেনেই থাকতে হবে। যদি মনে করেন নিয়ম মানবেন না, তাহলে যেখানে খুশি চলে যেতে পারেন। দেশের বাইরের কোনও মুসলিম দেশেও যেতে পারেন। সেখানে নিজেদের নিয়ম পালন করবেন। কিন্তু ভারতে থাকতে হলে এদেশের নিয়মই মানতে হবে।”
গত ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। তারপর থেকেই একাধিক প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই অন্যতম প্রকাশ্যে পশুবলি বা কুরবানি প্রথা নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত। সরকারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য এবং প্রকাশ্য পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমোদনের পর সেই নির্দেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে অবশ্য সমাজের বিভিন্ন স্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, অন্য অংশের দাবি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় প্রথা এভাবে আচমকা বন্ধ করা উচিত হয়নি। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আগামী ২৭ তারিখ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব বকরি ইদ। এই উৎসবে কুরবানির ধর্মীয় রীতি বহুদিন ধরেই প্রচলিত। ফলে উৎসবের ঠিক আগে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এই প্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবীর বলেন, “রাজ্যের ৩৭ শতাংশ মুসলিম গোমাংসভোজী। যদি কুরবানি বন্ধ করতে হয়, তাহলে সমস্ত কসাইখানাও বন্ধ করা উচিত। কুরবানি ধর্মীয় প্রথা, তা রাতারাতি নিষিদ্ধ করা যায় না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষত ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top