রাজ্য – রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে প্রকাশ্যে এল বড়সড় অসন্তোষ। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ হারানোর পর এবার বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন প্রবীণ সাংসদ Kakoli Ghosh Dastidar। তাঁর ইস্তফাপত্র ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দলের রাজ্য সভাপতি Subrata Bakshi-কে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বারাসত লোকসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের ‘নৈতিক দায়’ স্বীকার করলেও, একই সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগও তুলেছেন। বিশেষ করে তিনি পরোক্ষে আক্রমণ করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee এবং ভোটকুশলী সংস্থা I-PAC-কে।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলের বর্তমান কৌশল ও নতুন মুখের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি কালীঘাটের বৈঠকের পর লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে ফের সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় Kalyan Banerjee-কে। এরপর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছিল বলে সূত্রের খবর। পদত্যাগের পর সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, “পার্লামেন্টে বসে কাঁচা খিস্তি করছে… এই সব নারীবিদ্বেষী মানুষদের আধিপত্য মানতে পারছি না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য সরাসরি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করে করা হয়েছে। অতীতে দলের সাংসদ Mahua Moitra-কে নিয়ে কল্যাণের একাধিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার ‘নারীবিদ্বেষী’ ইস্যু সামনে এনে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন কাকলি।
চিঠিতে শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ ও দুর্নীতির একাধিক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি করেছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও মূল্যবোধের উপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, এতদিন দলের অন্দরে থেকেও কেন এই বিষয়গুলি নিয়ে সরব হননি কাকলি ঘোষ দস্তিদার? ভোটে ভরাডুবির পর হঠাৎ করে এই অবস্থান বদলকে ঘিরেও উঠছে নানা প্রশ্ন।




















