কলকাতা – শহরে অপরাধ দমনে আরও কঠোর অবস্থান নিল লালবাজার। বৃহস্পতিবার অপরাধ দমন সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে থানার ওসি এবং গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিই অনুসরণ করতে হবে এবং কোনও মামলার তদন্তে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
বৈঠকে গত কয়েক মাসে শহরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধের তথ্য স্লাইড শো-এর মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিটি মামলার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, কোথায় চার্জশিট জমা পড়েনি কিংবা কোন অভিযুক্ত এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, সে বিষয়ে থানার ওসি ও গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চান পুলিশ কমিশনার। দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়।
খুন, ধর্ষণ, ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে এবার থেকে সরাসরি নজরদারি করবেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা। তাঁদের সহায়তা করবেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা ইন্সপেক্টররা। মামলাগুলির চার্জশিট দ্রুত জমা পড়ে যাতে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে যায় এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সেই বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নাবালিকাদের উপর যৌন নির্যাতন এবং পকসো আইনের অধীনে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়ার লক্ষ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধের তদন্তে সমন্বয় বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইটি আইনের আওতায় সাইবার থানা তদন্ত করলেও গোয়েন্দা বিভাগের তত্ত্বাবধানে মামলাগুলি থাকবে, যাতে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
প্রত্যেক পুলিশ ডিভিশনে পৃথক সাইবার থানা তৈরির প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। এছাড়াও থানাগুলিতে কম্পিউটার-সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ারদের পরিবর্তে প্রশিক্ষিত কনস্টেবলদের নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার, যাতে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত আরও কার্যকর ও নিরাপদভাবে পরিচালিত করা যায়।




















