মেয়র নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলে জোর টানাপোড়েন, সাদা পাতায় সই সংগ্রহ নিয়ে নতুন বিতর্ক

মেয়র নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলে জোর টানাপোড়েন, সাদা পাতায় সই সংগ্রহ নিয়ে নতুন বিতর্ক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



কলকাতা – বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা সংক্রান্ত সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহেই এবার কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পুর দলে ঐক্য বজায় রাখার লক্ষ্যে দলের তরফে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও নতুন মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রবিবার তৃণমূল ভবনে কাউন্সিলরদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

দলীয় সূত্রে খবর, রবিবার উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার দুটি পৃথক স্থানে গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে কাউন্সিলরদের একটি সাদা পাতায় সই করতে বলা হয়েছিল। ওই নথিতে মূলত উল্লেখ ছিল, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে মেয়র হিসেবে মনোনীত করবেন, তাঁকেই সমর্থন জানানো হবে। তবে নথিতে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ ছিল না বলেই জানা গিয়েছে।

সম্প্রতি ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ শূন্য রয়েছে। আগামী ছয় মাসের জন্য নতুন মেয়র নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ এবং প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

তৃণমূল ভবনে ডাকা বৈঠককে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হওয়ার পর দলীয় নেতৃত্বের একাংশ চাইছিলেন, কাউন্সিলররা সরাসরি দলনেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঐকমত্যের বার্তা দিন। তবে অন্য একটি গোষ্ঠী নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং তার সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্রের খবর, বিকেলের পর ভবানীপুর এবং উত্তর কলকাতার দুটি স্থানে সই সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই কর্মসূচির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়। দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, একাধিক কাউন্সিলরকে ফোন করে এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে সই সংগ্রহের উদ্যোগ প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি বলে খবর।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, তৃণমূলের মোট কাউন্সিলর সংখ্যা বর্তমানে ১৩৫। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬৮ জনের সমর্থন। তবে সূত্রের দাবি, দুই শিবির মিলিয়েও সেই সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। বিদায়ী বোর্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং মেয়র পারিষদও সই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূলের একাংশের মতে, পুর আইনে নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরের সমর্থন প্রয়োজন এবং সেই পথ অনুসরণ করাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে বিরোধী মতের নেতাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখা জরুরি।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই স্পষ্ট করবে তৃণমূলের পুর দলে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয় এবং দলীয় সমীকরণে তার কী প্রভাব পড়ে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top