রথের আগেই স্বস্তি কুমোরটুলিতে, সরকারি হস্তক্ষেপে পৌঁছল প্রতিমা তৈরির মাটি

রথের আগেই স্বস্তি কুমোরটুলিতে, সরকারি হস্তক্ষেপে পৌঁছল প্রতিমা তৈরির মাটি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – আর মাত্র কয়েকদিন পরেই রথযাত্রা। বাঙালির উৎসবের ক্যালেন্ডারে এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি টানার মধ্য দিয়েই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির সূচনা হয়। এই দিন থেকেই দুর্গা প্রতিমার কাঠামোয় প্রথম মাটি দেওয়ার রীতি পালন করা হয়। যদিও বর্তমানে সারা বছর ধরেই প্রতিমা তৈরির কাজ চলে, তবুও রথযাত্রাকে ঘিরে প্রস্তুতির আলাদা তাৎপর্য রয়েছে।

তবে এবছর রথের আগে বড় সমস্যার মুখে পড়েছিলেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। দুর্গা প্রতিমা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। ফলে সময়মতো প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল শিল্পী মহলে।

জানা গিয়েছে, দুর্গা প্রতিমা তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের মাটি মূলত ডায়মন্ড হারবার এবং উলুবেরিয়া এলাকা থেকে আসে। উলুবেরিয়া থেকে নৌকায় করে নিয়মিত মাটি পৌঁছালেও ডায়মন্ড হারবার থেকে মাটির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন শিল্পীরা। প্রয়োজনীয় পরিমাণ মাটি না পাওয়ায় প্রতিমা নির্মাণের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে কুমোরটুলির শিল্পীরা প্রথমে শ্যামপুকুরের বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তীর দ্বারস্থ হন। পরে বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকেও চিঠি দেওয়া হয়। শিল্পীদের দাবি ও সমস্যার কথা জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আবেদন করা হয়েছিল। সেই সময় অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হবে এবং শিল্পীদের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অবশেষে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী মিন্টু পাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে চারটি লরি ভর্তি মাটি কুমোরটুলিতে এসে পৌঁছেছে। ফলে প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান আবার স্বাভাবিক হয়েছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর মাটির সরবরাহ ফের শুরু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কুমোরটুলির শিল্পীরা। তাঁদের আশা, এখন আর প্রতিমা নির্মাণের কাজে কোনও বাধা থাকবে না এবং আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

রথযাত্রার প্রাক্কালে এই মাটির জোগান ফিরে পাওয়া কুমোরটুলির শিল্পীদের কাছে এক বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই প্রতিমা তৈরির অন্যতম প্রধান সমস্যা মিটে যাওয়ায় এখন জোরকদমে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিল্পীরা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top