রাজ্য – লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙনের পর কোন শিবিরকে বৈধ স্বীকৃতি দেওয়া হবে, তা নিয়ে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ২০ জুলাই শুরু হতে চলা লোকসভার বাদল অধিবেশনের আগেই স্পিকার ওম বিড়লা এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। তাঁর সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে সংসদে কোন পক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
স্পিকারের সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের বক্তব্য ইতিমধ্যেই শোনা হয়েছে। একদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নিজেদের দাবি, নথিপত্র ও যুক্তি স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।
শুধু তৃণমূল নয়, শিবসেনার সাংসদদের দলীয় অবস্থান নিয়েও শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং বিদ্রোহী সাংসদদের বক্তব্যও স্পিকার শুনেছেন। ফলে বাদল অধিবেশনের আগেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্কের নিষ্পত্তি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা রয়েছে।
২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া লোকসভার বাদল অধিবেশনে নতুন আসন বিন্যাস কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্পিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদে কোন সাংসদ কোন দলের আসনে বসবেন এবং কোন শিবির সরকারি স্বীকৃতি পাবে, তা নির্ধারিত হবে।
এরই মধ্যে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দলীয় প্রতীক, সংসদীয় স্বীকৃতি, সাংগঠনিক অধিকার এবং সম্পত্তি নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক অধিকারের প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত আদালতেই গড়াতে পারে। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দাবি, নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট সাংসদরা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে তাঁদের অধিকার হারিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সংসদীয় স্বীকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।




















