রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে শিল্পোন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বার্তা দিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার এক বাণিজ্য সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্র থেকে প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের শিল্প স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অন্যতম বিনিয়োগবান্ধব রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে নানা কারণে রাজ্যের শিল্প পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং শিল্পপতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করছে বলেও তিনি জানান। উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে, তবে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবেন শিল্পপতিরাই।
শিল্পমহলের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট সরলীকরণের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই ধরনের নীতিগত পরিবর্তন ভবিষ্যতে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হতে পারে।
বাণিজ্য সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। তিনি বলেন, বাঙালিরা ব্যবসা করতে পারেন না—এই ধারণা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। অতীতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকলেও বাঙালিদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারি সূত্রের দাবি, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস, এল অ্যান্ড টি এবং পিয়ারলেস গ্রুপ-সহ একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে এল অ্যান্ড টি ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মেগা ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে, যার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত মিলেছে। পিয়ারলেস গ্রুপ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ক্যানসার চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণ, বারাসত জেলা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ এবং আবাসন ও শপিং মল প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে পিডব্লিউসি বলেও সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এখন শিল্পমহলের নজর থাকবে ঘোষিত বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলির বাস্তবায়নের দিকে। এই প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায় এবং রাজ্যের শিল্পোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে, তার উপরই আগামী দিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনেকটাই নির্ভর করবে।




















