রাজ্য – বর্তমানে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার নিয়েছে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা ও অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাটপন্থী শিবির। দুটি পক্ষের মধ্যে কে প্রকৃত তৃণমূল, তা নিয়ে বিরোধ এখন নির্বাচন কমিশনের কাছেও পৌঁছেছে।
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি ছাড়া দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে গোপন বৈঠক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচালনার অভিযোগ তুলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কালীঘাট, প্রগতি ময়দান-সহ শহরের চারটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। অভিযোগে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সই জালিয়াতি বিতর্কের পর থেকেই দলীয় ভাঙন প্রকাশ্যে আসে। দাবি করা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদ রয়েছেন। অন্যদিকে ৬৪-র বেশি বিধায়ক এবং একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে নিয়ে পৃথক সংগঠন গড়ে তুলেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের গোষ্ঠী।
বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই নিজেদের পৃথক কমিটিও গঠন করেছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন করেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং ঋতব্রত-সন্দীপন সাহাদের বিদ্রোহী গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন শিবির অনুমতি পায়, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।



















