বিদেশ – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাগরিকত্ব নীতিতে বড় ধাক্কা দিল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ভারতীয়-সহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার দীর্ঘদিনের আইন পরিবর্তনের যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প, তা খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার ঘোষিত ঐতিহাসিক রায়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার বহাল রাখা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির বেঞ্চে ৬-৩ ভোটে এই রায় দেওয়া হয়। ছয়জন বিচারপতি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখার পক্ষে মত দেন, আর তিনজন বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। এর ফলে ট্রাম্পের জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার পথ বন্ধ হয়ে গেল।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৫৬ বছরের পুরনো জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ শুরু করেন এবং ২১ জানুয়ারি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের সন্তানদের জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব না দেওয়া।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি লড়াই শুরু হয়। প্রথমে অভিবাসী অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে এক সন্তানসম্ভবা মহিলা, ডেমোক্র্যাট শাসিত ২২টি অঙ্গরাজ্য, কলাম্বিয়া জেলা এবং সান ফ্রান্সিসকো শহরও পৃথকভাবে মামলা করে। বিভিন্ন ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করে এবং নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে।
নিম্ন আদালতগুলিতে ধারাবাহিকভাবে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশ প্রশাসনের সাংবিধানিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করছে এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
মামলার শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসব পরিবারের সন্তান আমেরিকার মাটিতে জন্মগ্রহণ করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আওতায় জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাগরিকত্ব শুধু একটি আইনি পরিচয় নয়, বরং অধিকার ভোগ এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পূর্ণ অংশগ্রহণের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা। আদালত সেই ঐতিহাসিক সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতিকেই বহাল রেখেছে।
এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা আপাতত অক্ষুণ্ণ থাকল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল।



















