দেশ – ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন করে আইন আনতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র সরকার। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সংশ্লিষ্ট বিলটি সংশোধনের জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন সংসদের বাদল অধিবেশনেই সংশোধিত আকারে বিলটি পুনরায় পেশ করা হতে পারে।
গত বছরের বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল, সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল পেশ করেছিলেন। এই বিলগুলির মূল লক্ষ্য ছিল সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধানে সংশোধন আনা এবং গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের সাংবিধানিক রক্ষাকবচের বিষয়টি নতুনভাবে নির্ধারণ করা।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, কোনও প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রী যদি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনও গুরুতর ফৌজদারি মামলায় ৩০ দিনের বেশি সময় জেলে থাকেন, তাহলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করার বিধান রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল জনজীবনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করা।
তবে বিলটি নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি। বিরোধীদের অভিযোগ, এই আইনকে ব্যবহার করে নির্বাচিত বিরোধী সরকারগুলিকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে একে গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছিলেন। বিতর্কের জেরে তখন বিলটি ভোটাভুটিতে না এনে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র সরকার। এখন সংশোধিত বিল সংসদে এলে তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




















