উত্তর চব্বিশ পরগনা – দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নৈহাটি বড়মা মন্দিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে মন্দির কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাঝরাতে মন্দির খুলিয়ে নিজের জন্মদিন পালন করেছিলেন। পাশাপাশি নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা মন্দির কমিটির প্রাক্তন সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও মন্দির পরিচালনায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস ভট্টাচার্য বলেন, পার্থ ভৌমিকের প্রভাবের কারণেই নির্ধারিত সময়ের পরে মন্দির খুলতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য, “প্রভাব খাটিয়ে জন্মদিন পালন করেছেন। জোর করে যদি আমাদের এসে বলেন, আমি মন্দির না খুলে কী করব?” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পার্থ ভৌমিকের প্রতিক্রিয়া ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অশোক চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গেও তাপস ভট্টাচার্য একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সম্পাদক পদে থাকলেও স্বাধীনভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা পুতুল ছিলাম। সভাপতির কথাতেই মন্দির চলত। অশোক চট্টোপাধ্যায়ের অঙ্গুলিহেলনেই আমাদের কাজ হত।” একইসঙ্গে তিনি জানান, এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন।
এদিন মন্দিরের প্রণামী বাক্স চুরির ঘটনাও স্বীকার করেন তাপস ভট্টাচার্য। তিনি জানান, প্রাক্তন ট্রাস্টি সদস্য সুনীল সাউয়ের নাম এই ঘটনায় উঠে আসার পর তাঁকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
মন্দিরের সোনা-গয়না নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তাপস ভট্টাচার্য বলেন, ভক্তদের দান করা গয়না গলিয়ে দেবীর মূর্তির অলংকার তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সংক্রান্ত সমস্ত মূল্যায়নের নথি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
মন্দিরে বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাপস ভট্টাচার্য দাবি করেন, সমস্ত কেনাকাটা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং চেকের মাধ্যমে করা হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অডিট রিপোর্ট, হিসাবপত্র এবং সোনার মূল্যায়নের নথি সকলের সামনে তুলে ধরতে প্রস্তুত রয়েছেন।




















