তিন বছরের বকেয়া, ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের অনড় অবস্থান — পুজোর আগে সংকটে কলকাতা পুরসভার পরিষেবা

তিন বছরের বকেয়া, ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের অনড় অবস্থান — পুজোর আগে সংকটে কলকাতা পুরসভার পরিষেবা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



কলকাতা – প্রায় তিন বছর ধরে কাজের বিল বকেয়া থাকায় কলকাতা পুরসভার ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা না মেলায় তাঁরা নতুন কোনও টেন্ডারে অংশ নিচ্ছেন না। এর জেরে দুর্গাপুজোর আগে শহরের রাস্তা সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন, আলো বসানো, বস্তি উন্নয়ন এবং নিকাশি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুর পরিষেবা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন বছরে বিভিন্ন বিভাগের ঠিকাদারদের মোট প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ঠিকাদারদের দাবি, আগের সরকার ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করালেও মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ বিল পরিশোধ করেছিল। পাশাপাশি অন্যান্য প্রকল্পেরও বিপুল অঙ্কের পাওনা এখনও মেটানো হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, সরকার পরিবর্তন হলেও নিয়ম মেনে টাকা পাওয়ার আশা ছিল। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে অডিটের কাজ শেষ হওয়ার পর ১০ জুনের পর থেকে বকেয়া বিল পরিশোধ শুরু হবে। কিন্তু জুলাই মাস চলে এলেও বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২,০০০ ঠিকাদারের কেউই এখনও কোনও অর্থ পাননি।

এদিকে পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা দুর্গাপুজোর আগে রাস্তা সংস্কার, আলোকসজ্জা, রং করা এবং বস্তি উন্নয়ন সংক্রান্ত একের পর এক ফাইল প্রস্তুত করলেও কাজের গতি কার্যত থমকে রয়েছে। কারণ, টেন্ডার ডাকা হলেও বকেয়া বিলের কারণ দেখিয়ে কোনও ঠিকাদারই অংশ নিচ্ছেন না। ঠিকাদারদের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত, পাওনা টাকা না মেটানো পর্যন্ত তাঁরা নতুন কোনও টেন্ডারে অংশ নেবেন না।

এর ফলে শহরের একাধিক এলাকায় জল সরবরাহ বা নিকাশি প্রকল্পের জন্য খোঁড়া রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে মেরামতহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বহু ক্ষেত্রে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও রাস্তা সংস্কার হয়নি, ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

শনিবার পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, কেন্দ্রীয় একটি প্রকল্পে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ৪০ শতাংশ ম্যাচিং গ্রান্ট না দেওয়ায় প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা কেন্দ্রকে ফেরত চলে গিয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ কলকাতার চার থেকে পাঁচটি বরো এলাকায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের দায়িত্ব ঠিকাদারদের দেওয়া হলেও কাজ শুরু হয়নি। বরো ইঞ্জিনিয়াররা শোকজ নোটিস পাঠালে কয়েকজন ঠিকাদার মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দিলেও কাজের বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

পুরসভার প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছেও বিভিন্ন প্রকল্পের বহু ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে সেগুলির নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে ঠিকাদারদের অনড় অবস্থানের ফলে কলকাতা পুরসভার একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের গতি আপাতত অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়েছে। পুজোর আগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি সময়মতো সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top