রাজ্য – শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ‘ভয়ঙ্কর’ কুপ্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অঙ্কে জনপ্রিয়তা কমা বা ভোটের ঝুঁকি থাকলেও, সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎকে আশঙ্কাজনকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গুজরাতের উদাহরণ তুলে তিনি জানান, সেখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের হাতে মোবাইল ফোন দেওয়া হয় না অথবা ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে অনেক পড়ুয়া অভিভাবকদের চোখ এড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে থাকছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, অনেক ছাত্রছাত্রী রাত দেড়টা-দুটোর আগে ঘুমোতে যাচ্ছে না। এর ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পড়ুয়াদের মোবাইল আসক্তি দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শিক্ষক দিবসের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের প্রকৃত গুরুত্ব ও উদ্দেশ্যও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে। সন্তানদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে বলেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।




















