রাজ্য – চিকিৎসা পরিষেবায় গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের উপর সর্বোচ্চ জরিমানার অঙ্ক বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে নবগঠিত স্বাস্থ্য কমিশন। এতদিন সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও তা বাড়িয়ে ২ কোটি টাকা করার বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার বিবাদী বাগের দফতরে ১৩ সদস্যের নবগঠিত কমিশনের প্রথম বৈঠকে আগামী দিনের কাজের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকেই জরিমানার অঙ্ক বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু সর্বোচ্চ জরিমানার অঙ্ক আরও বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। তাঁর প্রস্তাব ছিল ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা। তবে বৈঠকে চিকিৎসক শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় শুরুতেই এতটা কঠোর না হওয়ার অনুরোধ জানান। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ জরিমানা ২ কোটি টাকা করার বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা নার্সিংহোম আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বলেও জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।
শুধু জরিমানাই নয়, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মপদ্ধতির উপরও নজরদারি বাড়াতে চলেছে কমিশন। রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ক্ষেত্রেই নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বজিৎ বসু। চলতি সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোম পরিদর্শনে যাওয়ার কথা কমিশনের সদস্যদের। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ কীভাবে কমিশনের কাছে জানাতে হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও প্রচার চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুজো ও বইমেলার মতো জনসমাগমের জায়গাতেও প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক নিয়োগের অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্য, Clinical Establishments Regulation Act অনুযায়ী যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকেই চিকিৎসা পরিষেবায় নিয়োগ করতে হবে। সেই নিয়ম লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাচক্রে, চিকিৎসক সংগঠনগুলির অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।




















