দেশ – ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭৬ বছরে পা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৯৫০ সালের এই দিনেই গুজরাতের মেহসানা জেলার ভাদনগরে জন্ম তাঁর। স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়া ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীও তিনি। ভাদনগরের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে RSS-এর সাংগঠনিক কাজ, বিজেপিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীত্ব এবং ২০১৪ সাল থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব—দীর্ঘ কয়েক দশকে একাধিক পর্যায় পেরিয়েছে তাঁর রাজনৈতিক জীবন।
নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর বাবা দামোদরদাস মোদী এবং মা হীরাবেন মোদী। ছোটবেলায় পরিবারের চায়ের দোকানের কাজে সাহায্য করতেন তিনি। ১৭ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে প্রায় দু’বছর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘোরার পর আহমেদাবাদে ফিরে RSS-এর সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭২ সালে RSS প্রচারক হিসেবে সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন। জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৭ সালে গুজরাতে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। আহমেদাবাদ পুরনিগম নির্বাচনে বিজেপির প্রথম জয় থেকে ১৯৯০ সালের গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে দলের উত্থান এবং ১৯৯৫ সালে ১২১টি আসনে জয়—দলের সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৯৯৫ সালে বিজেপির জাতীয় সম্পাদক হন এবং হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হিসেবে কাজ করেন এবং ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন নরেন্দ্র মোদী। ২০০২ সালের রাজকোট-২ বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং পরে মণিনগর কেন্দ্র থেকে একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০০২, ২০০৭ ও ২০১২ সালের গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনের পরও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব বজায় রাখেন। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ২০২৪ সালের ৯ জুন তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন।




















