রাজ্য- ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ গড়ার লক্ষ্যে ভারতের প্রাচীন সভ্যতাগত চেতনা, পরিবারবোধ ও নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। অ্যাসোসিয়েশন অব কর্পোরেট অ্যাডভাইজার্স অ্যান্ড এক্সিকিউটিভস-এর উদ্যোগে আয়োজিত ১৬তম প্রফেসর সুকুমার ভট্টাচার্য স্মারক বক্তৃতায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, ঐক্য ও সহযোগিতার ‘পরিবার বোধ’ই ভারতের রাষ্ট্রচেতনার অন্যতম ভিত্তি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘ সময়ের বিদেশি আক্রমণ ও ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাবে এই সভ্যতাগত চেতনার দুর্বল হয়ে পড়ার প্রসঙ্গও।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে দেশের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তারও উল্লেখ করেন রাজ্যপাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অন্তিম জন’-কে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের যে পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে পড়েছে। বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্ন শক্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, স্টার্টআপ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং নারীশক্তি ও যুবশক্তি দেশের এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস’-এর আদর্শে ভারত তার আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করে একটি সমর্থ, সবল, সম্পন্ন ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন আর এন রবি। জনভিত্তিক শাসন, জনপরিচালিত উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জাতিগঠনের সক্রিয় অংশীদার করার উপর জোর দেন তিনি।
বক্তৃতার শেষপর্বে দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন রাজ্যপাল। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ গড়ার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে যুবসমাজকে আত্মমন্থনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, তরুণদের কর্মোদ্যম, উদ্যোগ, জ্ঞান ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে জাতীয় রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে হবে।



















