বীরসিংহ
পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে গিয়ে মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিদ্যাসাগরের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের আদর্শকে স্মরণ করার পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং ঘাটালের একাধিক প্রকল্প নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।
বীরসিংহের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যাসাগরের স্মৃতিকে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। জন্মভূমিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। গ্রামে পর্যটকদের রাত্রিবাসের ব্যবস্থা, স্ট্রিট লাইট এবং পার্ক তৈরির মতো একাধিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ নিয়েও একাধিক বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রিলায়েন্সের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে এবং এই বিষয়ে সংস্থার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কলকাতায় আসবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যে আগের সরকারের নীতিরও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের ভুল নীতির জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্যে আমরা পিছিয়ে। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রেও রাজ্যের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কিন্তু এই সরকারের আমলে সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে।”
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটালের দীর্ঘদিনের জলসমস্যা মোকাবিলায় ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই অর্থের অর্ধেক কেন্দ্র এবং অর্ধেক রাজ্য সরকার দেবে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রার কথাও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি পাঁশকুড়া থেকে ঘাটালের ইড়পালা পর্যন্ত রেলপথের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের মানুষ যে আশা ও স্বপ্ন নিয়ে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় এনেছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন দিয়ে শুরু হওয়া এদিনের অনুষ্ঠান তাই শুধু স্মরণসভাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; শিক্ষা, সমাজ সংস্কার, শিল্পায়ন এবং ঘাটালের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক বার্তাও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে।




















