নয়াদিল্লি: বাজারে গেলেই পকেটে টান অনুভব করছেন সাধারণ মানুষ। কাঁচা সবজি থেকে পেঁয়াজ, শাকপাতা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী—একাধিক পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চাপে মধ্যবিত্তের সংসার। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের খুচরো মুদ্রাস্ফীতিতেও। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অগস্টে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪.৮৩ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫৪ শতাংশে।
দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পেঁয়াজের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির হার অগস্টের ৪৮.৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ১০৮.০৯ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি রসুন ও লেবুর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রতিদিনের রান্নার খরচ সামলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ছবিও স্পষ্ট হয়েছে কনজিউমার ফুড প্রাইস ইনডেক্সের (CFPI) পরিসংখ্যানে। অগস্টে খাদ্যপণ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৫.৯৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৭.৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ আরও বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবারের মাসিক বাজেটে।
খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার উপরে চলে গেলেও তা এখনও ২ থেকে ৬ শতাংশের নির্ধারিত সহনসীমার মধ্যে রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে, রেপো রেটের পরিবর্তনও ঋণগ্রহীতাদের খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। রেপো রেট বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ-সহ বিভিন্ন ঋণের সুদের হারে। ফলে বাজারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য খরচও মধ্যবিত্তের আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে।




















