কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা ভালো কাটেনি লাল-হলুদ সমর্থকদের। আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া, তার পর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর হোম ম্যাচে ইরাকের আল শর্তার কাছে হার—পরপর ধাক্কায় চাপে ছিল ইস্টবেঙ্গল শিবির। ফলে আইএসএল ২০২৬-২৭ মরশুমের প্রথম ম্যাচে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। আর সেই ম্যাচেই চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারিয়ে স্বস্তি ফেরাল লাল-হলুদ।
দ্বিতীয় সপ্তমীর বিকেলে ইস্টবেঙ্গলের দাপটের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি চার্চিল ব্রাদার্স। এর আগে মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল গোয়ার ক্লাবটি। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝড়ে সেই ছন্দ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় তারা। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় লাল-হলুদ।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন ড্যানি রামিরেজ। প্রায় ২১ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে সোজা জালে জড়িয়ে যায়। দ্রুত গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধের শেষদিকে ডেভিডের সাজিয়ে দেওয়া পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান এডমুন্ড। ফলে বিরতিতে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে হাবাসের দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমেনি ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচের ৮৫ মিনিট নাগাদ পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা অভিজ্ঞ বিপিন সিং বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুরন্ত বাঁকানো শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন। তাঁর নিখুঁত শটে কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
তবে সেখানেই থামেনি লাল-হলুদ। সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে অধিনায়ক রশিদের সাজিয়ে দেওয়া বল ধরে পিভি বিষ্ণু নিঃস্বার্থভাবে মাটিঘেঁষা ক্রস বাড়ান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন বিপিন সিং। তাঁর জোড়া গোলে বড় জয় নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল।
পরপর দুই ম্যাচে হতাশার পর আইএসএলের প্রথম ম্যাচে এমন দাপুটে জয় নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেবে লাল-হলুদ সমর্থকদের। চার গোলের এই জয়ে নতুন মরশুমে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বার্তাও দিল ইস্টবেঙ্গল।




















