কলকাতা | রাজনৈতিক খবর
দুর্গাপুজোর সময় বামেদের বুক স্টল ভাঙা এবং বই ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের আবহে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সপ্তমীর রাতে যাদবপুরে বুক স্টল ভাঙাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি লড়াইও শুরু হয়। তবে বামেদের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এবার বুক স্টল বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সব বইপ্রেমী, বইবিরোধী নই।” তবে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এবং সনাতনী হিন্দু পরম্পরার বিরোধিতা করে পুজোর মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল তৈরি করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পুষ্পাঞ্জলি, নবমীর আরতি, সিঁদুরখেলা-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতিতে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে বামেদের অবস্থানের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বুক স্টল ভাঙার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কর্পোরেশন বা সরকার যা করেছে, তা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই করেছে। একইসঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে বামেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনার কোনও প্রয়োজন নেই।
সিপিএমের বুক স্টল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দুর্গাপুজো বা অন্যান্য পুজোর বিরোধিতা করে এবং বেদ, উপনিষদ ও গীতার মতাদর্শ স্বীকার করে না, তাদের পুজোর সময় মণ্ডপের সামনে বই বিক্রি করতে না দেওয়াই ভালো। তাঁর পরামর্শ, বামপন্থী তত্ত্বের বই পার্টি অফিসের ভিতরে রাখা যেতে পারে। সেখানে আগ্রহীরা গিয়ে সেই বই সংগ্রহ করতে পারবেন।
পাশাপাশি ভারতীয় দর্শন ও মনীষীদের চিন্তাধারার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতীয় তত্ত্বের উপর তাঁদের বিশ্বাস রয়েছে। এই প্রসঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। গীতাকে শুধু ধর্মগ্রন্থ হিসেবে নয়, বিজ্ঞান হিসেবেও দেখেন বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী।
বুক স্টল বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে পুজোর মণ্ডপের সামনে বই বিক্রির অধিকার ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে ধর্মীয় পরম্পরা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাতও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।




















