নয়াদিল্লি: উৎসবের মরশুমে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে দলীয় সহকর্মীদের জেলে থাকতে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। যন্তর মন্তর কাণ্ডে দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকার ঘটনায় উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে লাইভ চলাকালীন দীপকে জানান, তাঁর আবেগপ্রকাশ নিয়ে অনেকে কটাক্ষ করতে পারেন। তবে সৌরভ ও আশুতোষ তাঁর পরিবারের সদস্যদের মতো। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন থেকেই এই মানসিক টান অনুভব করছেন তিনি।
উৎসবের দিনগুলিতে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, “উৎসবের দিনগুলোতে আপনারা সবাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। তবে যখন আপনারা নিজেদের প্রিয়জনদের সঙ্গে থাকবেন, তখন দয়া করে সৌরভ ও আশুর কথা মনে রাখবেন, কারণ ওরা দু’জনেই এখন নিজেদের পরিবারের পাশে নেই।” সহকর্মীদের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁদের প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে ত্যাগের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে রয়েছে ত্যাগের মধ্যে। মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার পথ অনুসরণ করছেন বলেও দুই সহকর্মীর প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন তিনি। দীপকের কথায়, “প্রকৃত শক্তি থাকে ত্যাগে। সমস্ত বাধা পেরিয়ে ওরা যখন হাসিমুখে বাইরে বেরিয়ে আসবে, তখন গোটা দেশ তাঁদের সম্মান জানাবে।”
এদিন প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও সরব হন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর বক্তব্য, কোনওভাবেই সৌরভ ও আশুতোষের মনে ভয় বা ঘৃণা তৈরি করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, “ঘৃণা আসলে আপনাদের মনে রয়েছে, ওদের ভেতরে নয়।” তবে এই মন্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের অংশ।
একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে করুণা, দয়া ও ভালোবাসার মতো মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখার আবেদন জানান দীপকে। তাঁর মতে, এই গুণগুলি হারিয়ে গেলে ঘৃণার রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিরাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। সৌরভ ও আশুতোষের বিচারবিভাগীয় হেফাজতকে কেন্দ্র করে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতার এই বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।




















