কলকাতা: ২০২৫ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আপাতত কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। তবে বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মামলার চূড়ান্ত রায়ের উপর। আপাতত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে কোনও বাধা নেই বলেও জানিয়েছে আদালত।
মূলত OBC-A ও OBC-B শ্রেণির প্রার্থীদের সংরক্ষণ বাতিল করে তাঁদের সাধারণ বা জেনারেল ক্যাটেগরির প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাই কোর্টের পুজোর অবকাশকালীন বিশেষ বেঞ্চের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট ক্যাটেগরির কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের দাবি, অন্তত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি বা EWS ক্যাটেগরির প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হোক।
শনিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায় জানান, এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে রেগুলার বেঞ্চে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য কী?
আদালতে আবেদনকারীদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত জানান, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে আবেদনকারীরা OBC-A ও OBC-B ক্যাটেগরিতে আবেদন করেন। কিন্তু গত ১৪ অক্টোবর পর্ষদ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, ওই দুই ক্যাটেগরিতে আবেদন করা প্রার্থীদের জেনারেল ক্যাটেগরির অধীনেই বিবেচনা করা হবে।
আবেদনকারীদের আইনজীবীর দাবি, ২০২৫ সালে আবেদন করার সময় তাঁদের OBC-A ও OBC-B ক্যাটেগরির প্রার্থী হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছিল। তাই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যেতে পারে, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন আবেদনকারীদের ক্যাটেগরি পরিবর্তন করা যায় না।
এই যুক্তিতেই ১৪ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে OBC-A ও OBC-B প্রার্থীদের EWS ক্যাটেগরিতে বিবেচনা করার আর্জি জানানো হয়েছে। ১১ অক্টোবর আবেদনের শেষ দিন ছিল বলে উল্লেখ করে এদিনই আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন জানান আইনজীবী।
তবে আপাতত সেই আর্জিতে সাড়া দেয়নি আদালত। পর্ষদের হলফনামা জমা পড়ার পর নিয়মিত বেঞ্চে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত চললেও, তার চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ আদালতের রায়ের উপরই নির্ভর করছে।




















