
নিজস্ব সংবাদদাতা,উত্তর ২৪ পরগনা, ১৮ই আগস্ট : রেডিওতে এক লাইনের বার্তা | ভাগ হল দেশ, মাটি, মাঠের খেলা ,স্কুলের শাসন , ছেলেবেলার প্রানের আনন্দ | ছোট বেলার বন্ধু চলে গেল ওপার বাংলায় | ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট রাত বারোটা | বৃটিশ শাসনের পরাধীনতার গ্লানী মুছে স্বাধীন হল ভূভারত | হিমালয় থেকে কন্যা কুমারিকা | গোটা দেশ তখন স্বাধীনতার আনন্দে মাতোয়ারা | ব্যাতিক্রম শুধু বর্তমান ভারত বাংলা দেশের সীমান্ত শহর বনগাঁ অধুনা পূর্ব পাকিস্থান বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার অন্তর্গত বনগাঁ মহাকুমা | তখনও স্বাধীন হয় নি বনগাঁ | কারন প্রশাসকরা তখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না বনগাঁ পূর্ব বঙ্গে থাকবে না স্বাধীন ভারতের পশ্চিম বাংলায় | সিদ্ধান্ত নিতেই কেটে গেল দু দিন | অবশেষে ১৭ই আগষ্ট সন্ধায় রেডিও মারফত ঘোষনা হল বনগাঁ থাকবে এ বঙ্গেই | ব্যাস স্বাধীন হল বনগাঁ | ১৮ই আগষ্ট বনগাঁ আদালতে উড়ল স্বাধীন ভারতের পতাকা | জনৈক মনোজ রায় নামে ব্যাক্তির বাড়িতে রেডিওতে ঘোষনা টা শোনা মাত্রই দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে ছিল রতনের | সে দিনের রতন পরবর্তীতে বনগাঁ মহাকুমা আদালতের বর্ষিয়ান আইনজীবী রতন ময় ঘোষ | এক লাইনের রেডিওর ভাষনই সেদিন রতনের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ছিল বন্ধু গোলাম মোস্তাফা কে | সেই যে ওরা চলে গেল আর দেখা হয় নি | যত দিন বাঁচবো বন্ধু গোলামের কথা ভুলতে পার বোনা | আদালত চত্ত্বরে ১৮ই আগষ্ট ধুমধাম করে পতাকা উড়লেই মনে পড়ে সৃষ্টির ইতিহাস | তখনও বনগাঁ যশোর জেলার অন্তর্গত মহাকুমা | একসময় যে বনগাঁ ছিল নদীয়া জেলার অন্তর্গত | সে সময় বারাসাত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ্যাসলে ইডেন আর নদীয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ হর্শেল নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে কৃষক দের কথা মাথায় রেখে বনগাঁ কে আলাদা মহাকুমার রুপ দেন | তখন থেকেই দুই বঙ্গের জংশন বনগাঁ প্রশাসনিক কর্মদক্ষতায় ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয় | আজ সে সব ফ্যাকাশে ইতিহাস | তবুও প্রতিবছর পাতা উল্টে বনগাঁ আদালত চত্বরে ১৮ই আগষ্ট সকাল বেলায় ইতিহাসের স্মৃতী আকঁড়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন আইনজীবিরা | সারাদিন চলে স্মৃতীর ভাষন , শহীদ বেদীতে মাল্যদান , সাংস্কৃতীক অনুষ্ঠান । এবছরও রবিবার একেবারে নিয়ম করে চলল স্বাধীনতার আস্বাদ গ্রহন



















