
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২৯ এপ্রিল, বিনা পাসপোর্ট ও বিনা ভিসায় প্রায় এক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশী শিশু। এমনই ছবি ধরা পড়ল ভাঙড়ে। বাবা-মায়ের বকুনির ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিল বছর দশের সাকিল। দুদিন বাড়ি ছেড়ে থাকার পর ট্রেনে উঠে শিয়ালদহতে চলে এসেছিল। তারপর থেকে দীর্ঘদিন শিয়ালদহের একটি চায়ের দোকানে কাজ করে নিজের পেট চালিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে লকডাউন হওয়ায় সমস্যায় পড়েসে। চায়ের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবারের সমস্যায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকে সাকিল। ঘুরতে-ঘুরতে সাইনসিটি হয়ে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে ভাঙড় থানা চন্ডিপুর এলাকায় চলে আসে। সেখানে এক মহিলাকে দেখে নিজের মা ভেবে গলা জড়িয়ে কাঁদতে শুরু করে। কিন্তু ওই মহিলা যখন বুঝতে পারেন যে শিশুটি ভুল করে কোথাও থেকে চলে এসেছে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসেম আলী বৈদ্য নামে এক ব্যক্তির কাছে বিষয়টি জানায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানেই তার নতুন জামা নতুন প্যান্টের ব্যবস্থা করে দিয়ে খাওয়া থাকার ব্যবস্থা করে। এর সঙ্গে সঙ্গে হাসেম বাবু, ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে। শিশুটির কাছে থেকে জানতে পারে তার বাড়ি বাংলাদেশের চিটাগাং জেলার আকবর শাহ থানার পাশে। এরপর আকবরশাহ থানা তে যোগাযোগ করলে সেভাবে কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি বলে দাবি হাশেম বাবুর। তারপর তিনি বাংলাদেশের চাইল্ড লাইনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তারা জানান পশ্চিমবঙ্গের চাইল্ড লাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই হাশেম বাবু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা চাইল্ড লাইনের অফিসে খবর দেন। সেই খবর আসে ভাঙড় থানাতে। ভাঙড় থানার পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বারজুলি গ্রামের বাসিন্দা হাসেম বাবুর বাড়ি থেকে ওই বাংলাদেশী শিশুটিকে উদ্ধার করে। তারপর পুলিশ এবং চাইল্ড লাইনের কর্মীরা বাংলাদেশের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের সাহায্যে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলিয়ে দেয় ওই শিশুর। বাবা-মাকে চোখের সামনে দেখে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলে ছোট শাকিল। দীর্ঘদিন পর ছেলেকে সামনে দেখে ট্রাক ড্রাইভার বাবা ও মা দুজনেই কান্নায় ভেঙে পড়ে।



















