রাজ্য – রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা মানস রঞ্জন ভূঁইয়ার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে। শনিবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানান বলে জানা গিয়েছে। একই দিনে তৃণমূলের সাংসদ সায়নী ঘোষও দলের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যার পর মানস ভূঁইয়া তাঁর পদত্যাগপত্র হোয়াটসঅ্যাপ মারফত পাঠিয়ে দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টানেন। যদিও দল ছাড়লেও তিনি রাজনীতি কিংবা সমাজসেবা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। ফলে আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তিনি কোনও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
একসময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সবং কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি পরাজয়ের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “আমি ক্যাপ্টেন, আমি দায়ী। এই হার জনগণের রায় হিসেবে মাথা পেতে নিয়েছি। কোথাও কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছি।”
নির্বাচনের পর তাঁর একাধিক বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়। মানস ভূঁইয়া বলেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারীও মেদিনীপুরের সন্তান এবং তিনিও মেদিনীপুরের মানুষ। একজন মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তিনি গর্ববোধ করেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যে সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, সেগুলি বাস্তবে সফলভাবে রূপায়িত হবে। একই সঙ্গে সবং এলাকায় সন্ত্রাস ও অশান্তির অভিযোগ তুলে সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
মানস ভূঁইয়ার এই পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে তিনি কোন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।



















