বিদেশ – তেহরানের পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ছয় মাস ধরে সংঘাত চললেও এখনও পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাফল্য মেলেনি বলে দাবি করা হচ্ছে। উল্টে ইরান নীতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনও এগিয়ে আসছে। ফলে যুদ্ধের জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের বিষয়টি আপাতত একপাশে সরিয়ে রেখে সংঘাত থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে মার্কিন প্রশাসন। এমনকি পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছনোর আগেই ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে সরে আসার বিষয়টিও ট্রাম্প বিবেচনা করছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় একাধিকবার বিশৃঙ্খলা এবং অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে তেহরান দীর্ঘমেয়াদি ও কঠিন সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে শনিবার ইরানের তরফে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়ার জন্য একাধিক শর্ত সামনে রাখা হয়েছে। ইরানের দাবি, ওই জলপথ খুলে দেওয়ার বিনিময়ে আমেরিকাকে কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থ দিতে হবে, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে।
ইরানের এই দাবিগুলি সংঘাত থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। কারণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে অবাধ জাহাজ চলাচল ফের চালু করতে আগ্রহী আমেরিকা। ফলে একদিকে যুদ্ধের চাপ, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের জটিলতা এবং সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর।




















