রাজ্য – টোটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এবার নতুন নীতি নেওয়ার পথে রাজ্য সরকার। টোটোর পরিবর্তে ধাপে ধাপে ই-রিকশা চালু করা হলেও তা যাতে রাস্তায় যথেচ্ছভাবে চলাচল করতে না পারে, সেজন্য নির্দিষ্ট রুটে সীমিত সংখ্যক পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শনিবার বারাকপুরে এই পরিকল্পনার কথা জানান পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ১০০টি করে অটো এবং ১০০টি টাটা ম্যাজিকের পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পরিবহণমন্ত্রী বলেন, টোটোর কোনও বৈধ রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের আইন মেনেই এবার ই-রিকশা চালু করা হবে এবং ধাপে ধাপে টোটোর পরিবর্তে ই-রিকশা আনার ব্যবস্থা করা হবে। তবে ই-রিকশার ক্ষেত্রেও অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট রুট চিহ্নিত করে সীমিত সংখ্যক পারমিটের মাধ্যমেই ই-রিকশা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
টোটো নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, টোটো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পুরসভাগুলির টোটো রেজিস্ট্রেশন করার আইনগত অধিকার ছিল না। তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন পুরসভা টোটো রেজিস্ট্রেশন করলেও সেই প্রক্রিয়া আইনসঙ্গত ছিল না বলেই অভিযোগ করেন পরিবহণমন্ত্রী।
বর্তমানে রাস্তায় টোটোর সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, মানুষের তুলনায় টোটোর সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছে। তাই ই-রিকশা চালু করা হলেও আগের মতো অবাধে পারমিট দেওয়ার পথে হাঁটবে না সরকার। বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে এমন প্রধান সড়কগুলিতে টোটোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে টোটো মালিকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত টোটো মালিক এবং নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের ই-রিকশায় রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হবে। কীভাবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ১০০টি অটো এবং ১০০টি টাটা ম্যাজিকের পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্জুন সিং। পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।




















