রাজ্য – অনেকেই মনে করেছিলেন এই রাজনৈতিক অস্থিরতার ছবি দেখা যাবে বাংলার বিধানসভায়। কিন্তু পরিস্থিতি এখন জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে পৌঁছে গিয়েছে। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অথবা এনডিএ-কে সমর্থন জানানোর প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। সূত্রের দাবি, বর্তমানে তৃণমূলের ২৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে অন্তত ডজনখানেক সাংসদ এই সিদ্ধান্তের পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন। আরও পাঁচ-ছয় জনের নাম নিয়েও আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক মহলের খবর, দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁদ এড়াতেই সাংসদ সংখ্যার হিসাব কষা হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কভাবে। লোকসভায় কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে দল ভাঙলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হয় না। সেই অঙ্ক অনুযায়ী ২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১৯ থেকে ২০ জন সাংসদ প্রয়োজন। দাবি করা হচ্ছে, সেই সংখ্যায় পৌঁছনোর লক্ষ্যেই তৎপরতা চলছে এবং বর্ষাকালীন অধিবেশনেই ছবিটা স্পষ্ট হতে পারে।
এই সম্ভাবনার খবর পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কারণ, যাঁদের নাম ঘুরছে তাঁদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত একাধিক সাংসদ রয়েছেন। দলীয় অন্দরে আইপ্যাকের ভূমিকা, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্বের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
বিজেপির লক্ষ্য শুধু বাংলার রাজনীতি নয়, সংসদে নিজেদের শক্তি আরও বাড়ানো। বর্তমানে লোকসভায় বিজেপির একক সংখ্যা ২৪০। সরকার চালাতে শরিক দলগুলির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ বিজেপি বা এনডিএ-র দিকে এলে কেন্দ্রীয় সরকার অনেকটাই স্বস্তিতে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর ক্ষেত্রেও বিরোধী বাধা কমে যেতে পারে।
লোকসভার পর বিজেপির নজর রাজ্যসভাতেও পড়তে পারে বলেই জল্পনা। তৃণমূলের রাজ্যসভায় ১৩ জন সাংসদ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যেও কয়েকজনের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলার পাশাপাশি পাঞ্জাবের উদাহরণও টানা হচ্ছে এই প্রসঙ্গে। সেখানে আপের একাধিক সাংসদ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যসভায় দলের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সেই ধরনের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন দেখার, তৃণমূল নেতৃত্ব এই সম্ভাব্য ভাঙন কীভাবে সামাল দেয় এবং জাতীয় রাজনীতির এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে কতটা বাস্তব রূপ নেয়।




















