রুরকি: নিজের গোয়েন্দা জীবনের শুরুর দিকের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। আইআইটি রুরকির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, একসময় সীমান্তের ওপারে একটি গোয়েন্দা দলকে অভিযানে পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দলের কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পাঁচ দিন, দশ দিন পেরিয়ে প্রায় ১৫ দিন হয়ে গেলেও তাঁদের কোনও খোঁজ না মেলায় প্রবল উদ্বেগে পড়েছিলেন তিনি। পরে সদর দফতর থেকে ফোন করে জানানো হয়, ওই দলের সদস্যরা চিনের হেফাজতে রয়েছেন। সেই মুহূর্তে নিজের পেশাগত জীবন শেষ হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হয়েছিল ডোভালের।
ঘটনাটি তাঁর কেরিয়ারের একেবারে শুরুর সময়ের। তখন তিনি কুড়ির কোঠায় থাকা এক তরুণ আইপিএস অফিসার এবং গোয়েন্দা বিভাগের কাজে সদ্য যুক্ত হয়েছেন। সিকিমে গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বে থাকাকালীন সীমান্তবর্তী এলাকার উপর নজরদারি এবং চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা PLA-র গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা তাঁর দায়িত্বের অংশ ছিল। সেই সময় সিকিম ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেও ছিল।
ডোভালের বর্ণনা অনুযায়ী, একবার সীমান্ত এলাকায় একটি গোয়েন্দা অভিযান চালানো হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই দলের ফিরে আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যায়। প্রথমে পাঁচ দিন, তারপর দশ দিন এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫ দিন কেটে যায়। দলের সদস্যরা আদৌ জীবিত আছেন কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। কোনও তুষারধস বা বড় দুর্ঘটনার খবরও পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত সদর দফতর থেকে ফোন আসে। ঊর্ধ্বতন আধিকারিক তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি কয়েকজনকে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়েছিলেন। তখনই ডোভাল জানতে পারেন, ওই গোয়েন্দা দলের সদস্যরা চিনের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। পরে আলোচনা বা সমঝোতার মাধ্যমে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয় বলে ডোভাল জানান। দলটি ফিরে আসার পর তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এরপর গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হলে ডোভালের মনে হয়েছিল, এই ঘটনার জেরে তাঁর কেরিয়ার বুঝি সেখানেই শেষ হয়ে গেল।


















