রাজ্য – দুর্নীতি, তোলাবাজি কিংবা জবরদখলের অভিযোগ উঠলে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্যেই বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে জমি ও বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগ সামনে এল। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালিতে স্বামী কেশবানন্দ মহারাজের একটি বাড়ি বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভাড়া নিয়েছিলেন রেখা পাত্র। অভিযোগ, ভোট মিটে যাওয়ার পরও তিনি সেই বাড়ি ছাড়েননি এবং নিয়মিত ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগকারী কেশবানন্দ মহারাজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে গিয়ে বিষয়টি জানান। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের কাজে ব্যবহারের জন্য মার্চ মাস থেকে তাঁর বাড়ির ১২টি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন রেখা পাত্র। নির্বাচনের সময় ওই বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বাড়িটি খালি করা হয়নি বলে অভিযোগ।
কেশবানন্দ মহারাজের দাবি, প্রথম দু’মাস অর্থাৎ মার্চ ও এপ্রিলের ভাড়া দেওয়া হলেও এরপর আর কোনও ভাড়া দেওয়া হয়নি। চার বিঘা জমির উপর তৈরি তিনতলা ‘কেশবানন্দ প্যালেস’ বাড়িটি ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় কিনে নেওয়ার কথাও হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। কিন্তু সেই চুক্তিও বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বাড়ি ও জমি দখলে থাকার পাশাপাশি তাঁকে দুর্ব্যবহারও করা হয়েছে। নিজেকে বিজেপি সমর্থক দাবি করে তিনি বলেন, দলের প্রতি সমর্থনের কারণেই নির্বাচনের সময় রেখা পাত্রকে বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন।
সমস্যার সমাধানের আশায় শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন কেশবানন্দ মহারাজ। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া না পাওয়ায় এবং বাড়ি খালি না করায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আবেদন করেছেন তিনি।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। তাঁর বক্তব্য, পা ভেঙে যাওয়ার কারণে বেশ কয়েক মাস তিনি বিধানসভায় যেতে পারেননি। সেই কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় তাঁর বেতনও বন্ধ ছিল। রেখা পাত্রের দাবি, তিনি কেশবানন্দ মহারাজকে জানিয়েছিলেন, বেতন চালু হলেই বকেয়া টাকা পরিশোধ করে দেবেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে অপমান করার উদ্দেশ্যেই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে এখন নজর রয়েছে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে ওঠা এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি কীভাবে খতিয়ে দেখা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।




















