দিল্লী – দীর্ঘ অনশনের পর অবশেষে অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সোমবার থেকেই তিনি অনশন ভাঙতে পারেন বলে জানিয়েছেন। তবে তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনটি শর্ত রেখেছেন। ওই তিনটির মধ্যে যে কোনও একটি পূরণ করা হলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে রাজি বলে জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হাতে লেখা একটি খোলা চিঠিতে সোনম ওয়াংচুক তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, সরকার যদি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে, অথবা তিনি ও তাঁর সংগঠনের প্রতিনিধিদের সংসদে গিয়ে বিষয়টি উত্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা আলোচনার আশ্বাস দেন, কিংবা শারীরিক কারণে সংসদে যেতে না পারলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা হাসপাতালে এসে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলেই তিনি অনশন ভাঙবেন।
এর আগে সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলী আঙ্গমোও জানিয়েছিলেন, সংসদে শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং সরকারের দায়বদ্ধতার আশ্বাস মিললে অনশন প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও প্রতিশ্রুতি মেলেনি।
শনিবার যন্তরমন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে দিল্লি পুলিশ সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায়। তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দিলেও তিনি এখনও পর্যন্ত কোনও ধরনের তরল খাবারও গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী।
এদিকে সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। একই দিনে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিরও ডাক দেওয়া হয়েছে। সোনম ওয়াংচুক সাধারণ মানুষকে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা যেমনই থাকুক, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কেবলমাত্র ঘোষিত তিনটি শর্তের যে কোনও একটি পূরণ হলেই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।
অন্যদিকে, সংসদ ভবনের দিকে মিছিলের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। সংসদ চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনও মিছিল এগোলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















