কলকাতা – রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর আবার ফিরতে চলেছে মহাকরণে। বিজেপির নতুন সরকার নবান্ন থেকে মন্ত্রীদের দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস ধাপে ধাপে রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই মহাকরণকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি স্বস্তির মুখে শিবপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা।
নবান্ন রাজ্যের সচিবালয় হওয়ার পর থেকেই শিবপুর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। ভিভিআইপি যাতায়াতের কারণে প্রায়ই রাস্তা বন্ধ থাকত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর ফলে প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হত স্কুলপড়ুয়া, অফিসযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ সকলকেই।
শিবপুরের বাসিন্দা সুব্রত কুমারের কথায়, “নবান্ন আসার পর থেকে এলাকা যেন কার্যত বন্দি হয়ে গিয়েছিল। এবার মনে হচ্ছে আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরবে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার কারণে বহু এলাকায় ছাদে ওঠা, গাড়ি পার্কিং এবং রাতের পর যান চলাচলেও নানা বিধিনিষেধ ছিল। ফলে প্রশাসনিক সদর দপ্তর সরে যাওয়ার খবরে খুশি ব্যবসায়ী, টোটোচালক, গৃহবধূ-সহ এলাকার বহু মানুষ।
বাসিন্দাদের আশা, এবার নবান্ন ঘিরে থাকা ব্যারিকেড সরবে এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক হবে। বহুদিন পর শিবপুর তার পুরনো ছন্দে ফিরবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণের সংস্কারের কাজের জন্য হাওড়ার শিবপুরে অবস্থিত নবান্ন ভবনে রাজ্য সরকারের সদর দপ্তর স্থানান্তর করেছিলেন। সেই সময় এই পদক্ষেপকে ‘পরিবর্তনের প্রতীক’ হিসেবেই দেখা হয়েছিল। প্রায় ১৩ বছর পর আবারও প্রশাসনিক ইতিহাসে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে মন্দিরতলা ও আশপাশের এলাকার মানুষ নবান্নকে কেন্দ্র করে বদলে যেতে দেখেছেন গোটা এলাকার জীবনযাত্রা। ১৫ তলা নবান্ন ভবনের ব্যস্ততা, কড়া নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব সরাসরি পড়েছিল স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে। এখন সেই অধ্যায়ের অবসানের সম্ভাবনায় স্বস্তির হাওয়া বইছে এলাকায়।
বলাই মিস্ত্রি লেনের বাসিন্দা গৌরীশংকর সেনগুপ্ত, তাপস চক্রবর্তী ও সনাতন শিকদারদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘নবান্ন অভিযান’ হলেই গোটা এলাকা কার্যত লকডাউনের চেহারা নিত। রাস্তা জুড়ে ব্যারিকেড পড়ে যেত। অনেক সময় অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও সমস্যার মুখে পড়তে হত। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে আর সেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।
একই ধরনের অভিযোগ শোনা গিয়েছে ক্ষেত্র ব্যানার্জি লেন, হীরালাল ব্যানার্জি লেন এবং শরৎ চ্যাটার্জি রোডের বাসিন্দাদের মুখেও। তাঁদের বক্তব্য, নবান্নের নিরাপত্তার চাপে সাধারণ জীবনযাত্রা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। বাড়ির ছাদে ওঠা থেকে শুরু করে সামান্য মেরামতির কাজেও অনুমতির জটিলতা ছিল। এমনকী অনেকেই তিনতলার উপরে বৈধ নির্মাণ করতে চাইলেও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনুমতি পাননি বলে অভিযোগ।
এখন রাজ্য সচিবালয় ফের মহাকরণে ফিরে গেলে শিবপুরের মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন বলেই আশাবাদী স্থানীয়রা।




















