নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠাল দেশের শীর্ষ আদালত। ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ ও সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনের একটি বিশেষ ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া ওই আইনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব পালনের সময় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সম্পাদিত কাজের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, এই আইনের ফলে নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে।
সমাজকর্মী ও আইনজীবী অরুণ কুমার আগরওয়াল এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। তাঁর যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য কমিশনারদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, কোনও ব্যতিক্রম ছাড়া সার্বিক দায়মুক্তি দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের আইনি প্রতিকারের সুযোগও বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে নোটিস জারি করে শীর্ষ আদালত।
পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনারদের এই বিশেষ আইনি রক্ষাকবচ দেওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি কী, তা নিয়েও জবাব চেয়েছে আদালত। সংবিধানের ষোড়শ অধ্যায়ের বিধানগুলির সঙ্গে এই আইনের কোনও সংঘাত তৈরি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এখন সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের জবাবে নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কী ব্যাখ্যা দেন, সেদিকেই নজর রয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আইনি রক্ষাকবচের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।



















