পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর ঘিরে সাংবিধানিক জটিলতা, রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর ঘিরে সাংবিধানিক জটিলতা, রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। Mamata Banerjee ২০২১ সালের ৫ মে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও, বিধানসভার অধিবেশন শুরু হয়েছিল ৭ মে। সেই হিসাব অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয় এবং নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁকে কার্যনির্বাহী দায়িত্বে থাকার অনুরোধ করা হয়। যদিও সংবিধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই, রাজনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করেননি। এই পরিস্থিতিতে একাংশের মতে, রাজ্যে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা।
সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন এবং তাঁর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করা হয়। মন্ত্রিসভা রাজ্যপালের সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করে। এই বিধানকে সামনে রেখে কিছু মহল মনে করছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ হতে পারে। এই ফাঁকে কয়েকদিনের জন্য প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হলে কি রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বিদায়ী সরকার নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত কার্যনির্বাহী দায়িত্বে থাকে—এটাই প্রচলিত রীতি। তাই সরাসরি রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি রাজ্যপাল চাইলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অনুরোধ করতে পারেন।
অন্যদিকে, সংবিধান অনুযায়ী বিধানসভার মেয়াদ এখনও থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে রাজ্যপাল C V Ananda Bose কী সিদ্ধান্ত নেন, তার দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top