ভোটের পরিসংখ্যান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, অমিত শাহের দাবি খারিজ করলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন

ভোটের পরিসংখ্যান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, অমিত শাহের দাবি খারিজ করলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ—সবাই দাবি করতে শুরু করেছেন যে বাংলায় সরকার গঠন করবে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা দাবি করে জানিয়েছে, প্রথম দফাতেই বড় সুবিধা পেয়েছে তারা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দাবি করেছিলেন, প্রথম দফায় ১২৫টি আসন জিতে নিয়েছে তৃণমূল। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, প্রথম দফাতেই বিজেপির “দফারফা” হয়ে গিয়েছে। তবে বিজেপির এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।
এক্স হ্যান্ডেলে দীর্ঘ পোস্টে তিনি অমিত শাহের বক্তব্যের পাল্টা পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ৯২.৭০ শতাংশ ভোটদানের হার নিয়ে যে প্রচার করা হচ্ছে তা আসলে বিভ্রান্তিকর। তাঁর মতে, ভোটের শতাংশ বেশি দেখালেও প্রকৃত ভোটদানের সংখ্যা কমেছে।
ডেরেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে মোট ভোটার ছিল প্রায় ৩.৬৭ কোটি এবং ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩.১০ কোটি ভোট। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম দফার আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা ছোট হয়ে ৩.৩৩ কোটিতে নেমে আসে। তাঁর দাবি, এবারের প্রথম দফায় ৯২.৭০ শতাংশ ভোট পড়লেও মোট ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩.০৯ কোটিতে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৮৩,৬৭৪টি ভোট কম।
ডেরেক ও’ব্রায়েন আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা ছোট হওয়ায় শতাংশের হিসেবে বৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে, যা বাস্তবে মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নয়, বরং একটি “অঙ্কের খেলা”। তাঁর মতে, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ব্যাখ্যা সহজেই খণ্ডনযোগ্য এবং বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২১ এবং ২০২৬ সালের ভোটের ব্যবধান খুবই সামান্য।
এর পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে বাংলার ২৯৪টি আসনের প্রার্থী বলে ঘোষণা করেছিলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে। তাঁর কটাক্ষ, ভোটের ফলের পর রাজনৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জও নিতে হবে।
পরিসংখ্যান ও পাল্টা বক্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই তর্ক-বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top