মুর্শিদাবাদ – তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল ‘এজেইউপি (AJUP)’ গঠন করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি দ্রুতই প্রান্তিক হয়ে পড়বেন। কিন্তু ৪ মে-র ভোটগণনার ফলাফল সেই ধারণা উল্টে দিয়েছে। রেজিনগর ও নওদা—দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই এগিয়ে থেকে কার্যত চমক সৃষ্টি করেছেন হুমায়ুন কবীর। এই সাফল্যের পর তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।
তাঁর এই উত্থানের পেছনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ ঘিরে দেওয়া প্রতিশ্রুতি। দল ছাড়ার পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে গিয়ে তিনি মুর্শিদাবাদে একটি মসজিদ নির্মাণের ডাক দেন। সেই উদ্যোগে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে ইঁট ও আর্থিক সহায়তা আসতে থাকে। সমালোচকদের মতে এটি বিতর্ক তৈরি করলেও, রাজনৈতিকভাবে এটি সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেজিনগর ও নওদা—দুটি কেন্দ্র থেকেই শুরু থেকে লিড বজায় রেখেছেন হুমায়ুন কবীর। রেজিনগরে তিনি শক্তিশালী সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও এগিয়ে ছিলেন, আর নওদাতেও তাঁর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ফলে দুই কেন্দ্রেই তাঁর অবস্থান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভোটের আগে এক বিতর্কিত ‘স্টিং অপারেশন’-কে ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে একটি ভিডিওতে তাঁকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গেছে। তবে তাঁর পক্ষ থেকে এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-র তরফে এই ভিডিওকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর কারসাজি বলে দাবি করা হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কায় তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে, যা তাঁর রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সব বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মাঝেও নিজের অবস্থান ধরে রেখে দুই আসনে এগিয়ে থেকে হুমায়ুন কবীর এখন মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবে উঠে এসেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভায় তাঁর ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও বড় সমীকরণ তৈরি করতে পারে।




















