রাজ্য – শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের জনসভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অরাজকতা’ প্রসঙ্গে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্যে যাদবপুরের অতীত গৌরবের কথা উল্লেখ করে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে হুমকি, দেশবিরোধী স্লোগান এবং আন্দোলনের কারণে পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার শিক্ষার পরিবেশ ফেরানোর বার্তাও উঠে আসে।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই মোদির মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ছাত্রদের প্রতিবাদকে অরাজকতা বলা যায় না। তাঁর মতে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মেধা ও শিক্ষার জায়গা, যেখানে ছাত্ররা নিজেদের অধিকার নিয়ে সরব হয়।
এরপর এবার পাল্টা মন্তব্য করলেন বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্য করার আগে বাস্তব পরিস্থিতি জানা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতিতে কলেজ, পাড়া, চায়ের দোকান—সব জায়গাতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা হয়, যা একেবারেই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
রাজ চক্রবর্তী আরও বলেন, যাদবপুরের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে বহু ছাত্র-ছাত্রী রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উঠে আসে। সেখানে আলোচনার পাশাপাশি মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকলেও তা গঠনমূলক। তাঁর মতে, এটিকে অরাজকতা বলা ঠিক নয়।
তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মন্তব্য করার আগে বাংলাকে আরও ভালোভাবে বোঝা উচিত।” একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত করেন যে, বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আবেগ সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই ইস্যুতে মোদিকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, ছাত্রদের প্রতিবাদ মানেই অরাজকতা নয়। ফলে যাদবপুর ইস্যুতে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।



















