খেলা – বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ইউরোপীয় শক্তি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। একই সঙ্গে এই ম্যাচ ঘিরে ছিল আরও এক আবেগঘন অধ্যায়। দুই কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লুকা মদ্রিচ—দু’জনেরই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনও অপূর্ণ। তাই এই ম্যাচকে তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবেই দেখছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা।
খেলা শুরু হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে মাঠে নামে পর্তুগাল। প্রথম ১০ মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে কার্যত নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে তারা। একের পর এক দ্রুত আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে গোলের দেখা মেলেনি। রাফায়েল লিয়াওদের সামনে একাধিক ভালো সুযোগ এলেও সেগুলি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
এই ম্যাচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে নকআউট ম্যাচ খেলার নতুন নজির গড়েন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে প্রথমার্ধে তাঁর খেলায় বয়সের ছাপ কিছুটা চোখে পড়ে। একটি দুর্দান্ত ক্রসে সময়মতো হেড করতে না পারায় সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর প্রথম গোলের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।
শুধু রোনাল্ডোই নন, পর্তুগালের মিডফিল্ড তারকা ব্রুনো ফার্নান্ডেজও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। সেই সুযোগে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ক্রোয়েশিয়া। প্রথমদিকে চাপে থাকলেও সময়ের সঙ্গে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় তারা। বিশেষ করে রক্ষণভাগে জসিপ সুতালোদের দৃঢ় পারফরম্যান্স পর্তুগালের একের পর এক আক্রমণ ভেস্তে দেয়।
প্রথম ৪৫ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণ খুব বেশি চোখে না পড়লেও রক্ষণে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেই তারা ম্যাচে সমতা বজায় রাখে। বিরতির বাঁশি বাজার সময় পর্যন্ত কোনও দলই গোলের মুখ খুলতে পারেনি। ফলে ০-০ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ, আর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য উত্তেজনা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।




















