খেলা – আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনার মাঝেই ব্যাট হাতে জোরালো জবাব দিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে দুর্দান্ত শতরান করে নিজের ছন্দে ফেরার বার্তা দিলেন তিনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রোহিত শর্মা ১০০ বলে ১২১ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
এই ইনিংসের সুবাদে একটি বিশেষ নজিরও গড়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতরান করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে নাম লেখালেন তিনি।
ম্যাচের আগে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন মহলে তাঁর পরিবর্তে নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। সেই আবহেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় মঞ্চে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ভারতীয় অধিনায়ক।
তবে ইনিংসের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণ শুরু থেকেই সুইং ও সিম মুভমেন্টে ভারতীয় ওপেনারদের চাপে রাখে। কয়েকবার ব্যাটের কানায় লেগে বল বাউন্ডারিতে গেলেও ধৈর্য হারাননি রোহিত। ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস গড়ে তুলতে থাকেন।
চাপ সামলে সুযোগ পেলেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তিনি। বিশেষ করে জশ টংয়ের একটি ওভারে একাধিক চমৎকার বাউন্ডারি ও পুল শট খেলেন রোহিত। সেই সময় গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের ‘রোহিত, রোহিত’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে লর্ডস।
ইংল্যান্ডের বোলাররা মাঝেমধ্যে রান আটকে রাখলেও নিজের পরিকল্পনা থেকে একবারও সরে যাননি ভারতীয় অধিনায়ক। মিড-উইকেট অঞ্চলে ফিল্ডিং সাজানো থাকলেও অযথা ঝুঁকি না নিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। সেই সংযমই শেষ পর্যন্ত শতরানের ভিত গড়ে দেয়।
বাঁহাতি পেসার স্যাম কারানের বিরুদ্ধেও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন রোহিত শর্মা। আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছন্দে তাঁর বিরুদ্ধে রান তুলতে দেখা যায় ভারতীয় অধিনায়ককে। সুইপ, পুল এবং ফ্রন্ট-ফুট শটের মাধ্যমে সহজেই বোলারদের চাপে ফেলেন তিনি। এই ইনিংস শুধু ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, সমালোচকদেরও ব্যাট হাতে জবাব দেওয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকল।




















