রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার সূচনা করে হাওড়ার সাঁকরাইলে আমূলের দই উৎপাদন কারখানার শিলান্যাস হল রবিবার। প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের উদ্যোগে গড়ে উঠতে চলা এই প্রকল্পকে রাজ্যের দুগ্ধশিল্পের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের শিল্পনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, একসময় গুজরাটের বিনিয়োগ নিয়ে আপত্তি তোলা হলেও বর্তমানে সেই গুজরাটই পশ্চিমবঙ্গে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বিনিয়োগ করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাঁকরাইলের এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কেজি দই উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে রাজ্যের দুগ্ধ উৎপাদন, পশুপালন এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এই প্রকল্প শুধুমাত্র একটি শিল্প বিনিয়োগ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের পশুপালক, দুগ্ধ উৎপাদক এবং কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নের দিকেও একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছে যাবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আমূল কর্তৃপক্ষকে পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে দুটি আইসক্রিম উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। এই ধরনের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন।




















