দিল্লী – সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাককে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে গোটা নিউ দিল্লিকে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২৫টিরও বেশি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও দায়িত্বে রয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর ৪টা থেকেই বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। যন্তর মন্তরে কতজন বিক্ষোভকারী উপস্থিত রয়েছেন, বাইরে থেকে কতজন রাজধানীতে প্রবেশ করছেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতি ঘণ্টায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা কৌশলেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নিউ দিল্লিকে ১৫টি পৃথক সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট বা জনশৃঙ্খলা নষ্টের যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজয় চক, সংসদ মার্গ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন, ইন্ডিয়া গেট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনও ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ যান, জলকামান, অতিরিক্ত রিজার্ভ বাহিনী, বহুস্তরীয় ব্যারিকেড, যানবাহন তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি এবং টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে নিউ দিল্লির কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখারও প্রস্তুতি রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। বর্তমানে নিউ দিল্লি জেলাজুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। ফলে প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল বা বিক্ষোভ আইনত নিষিদ্ধ।



















