দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস থেকে ১ কোটিরও বেশি নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বুধবার ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের দাবি, পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করেই ওই টাকার সন্ধান মিলেছে। জানা গিয়েছে, পার্টি অফিসটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই ধরনের টাকা তোলা ছিল তৃণমূলের নেতাদের রোজকার ব্যাপার।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এরা এত টাকা ওখানে তুলেছে, আনলিমিটেড টাকা। কোথায় রেখেছিল, তার ঠিক নেই। এটা এদের প্রত্যেকদিনের রোজগার ছিল।” নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু আরও বলেন, “যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগার বলা যেতে পারে।”
রাজস্ব আদায়ের হিসেব তুলে দুর্নীতির অভিযোগ
শুধু সরিষার ঘটনা নয়, রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের হিসেব তুলে ধরেও প্রাক্তন শাসকদলকে আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৩ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। আর ২০২৬ সালের একই সময়ে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে।
শুভেন্দুর প্রশ্ন, নতুন করে কোনও কর চাপানো না হলে রাজ্যের রাজস্ব আদায় এতটা বাড়ল কীভাবে? সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির টাকা কোথায় কোথায় রয়েছে, বের করে নিয়েছি।”
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, দুর্নীতির টাকার বড় অংশ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বেনামে জমি কেনা হচ্ছে। এমনকী, বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরিষার ঘটনাকে ‘মিসফায়ার’ কটাক্ষ
সরিষার পার্টি অফিস থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে ‘মিসফায়ার’ বলেও কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, টাকা সেখানে রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরে হয়তো তা সরানোর কথা ভুলে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতারা।
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে আইনজীবী অর্ক নাগের দাবি, সুমিত রায়কে ফাঁসাতেই পুলিশ তাঁকে ওই পার্টি অফিসে নিয়ে গিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, “যা জানানোর আদালতে জানাবেন।”
তবে উদ্ধার হওয়া টাকার প্রকৃত উৎস কী, কারা এই অর্থের সঙ্গে যুক্ত এবং কী উদ্দেশ্যে ওই টাকা পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




















