২০২৮-এর আগে নয় নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট মেট্রো, একাধিক প্রকল্পে দেরিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

২০২৮-এর আগে নয় নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট মেট্রো, একাধিক প্রকল্পে দেরিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট মেট্রোপথ পুরোপুরি চালু হতে আরও সময় লাগবে। সব কিছু ঠিকঠাক চললেও এই প্রকল্পের যাত্রী পরিষেবা শুরু হতে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি হয়ে যাবে বলে জানালেন মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশুশেখর মিশ্র। সোমবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনের পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে। চিংড়িঘাটায় ট্রাফিক সংক্রান্ত ছাড়পত্র না মেলার কারণেই কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট প্রকল্পটি মূলত ২০২৭ সালের মাঝামাঝি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চিংড়িঘাটায় কাজ করার অনুমতি না পাওয়ায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এমনকি এখনই ছাড়পত্র মিললেও পুরো প্রকল্প শেষ হতে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময় লেগে যাবে।
একই সঙ্গে নোয়াপাড়া–বারাসত মেট্রো প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আপাতত এই লাইনের কাজ মাইকেলনগর পর্যন্ত শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ হতে ২০২৮ সাল হয়ে যাবে। মাইকেলনগর থেকে বারাসত পর্যন্ত বাকি অংশ মাটির তলা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এতে খরচ অনেকটাই বাড়বে। সেই কারণেই বিষয়টি ছাড়পত্রের জন্য রেলবোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে মেট্রো সূত্রে জানা গেছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করেন, অর্থের অভাবে কোনও প্রকল্প থেমে নেই। তাঁর কথায়, রাজ্যের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমতি মিললেই কাজ এগোবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের আগে যেখানে মাত্র ২৭ কিলোমিটার মেট্রো পথ নির্মিত হয়েছিল, সেখানে গত ১১ বছরে আরও ৪৫ কিলোমিটার লাইন যুক্ত হয়েছে।
মেট্রোর জিএম আরও জানান, ইয়েলো লাইনের কাজ আপাতত মাইকেলনগর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের নির্মাণকাজ চলতি বছরের এপ্রিল–মে মাস নাগাদ শুরু হবে। স্টেশনের নকশা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। আগে যেমন একটি ছাউনির নীচে দুই প্ল্যাটফর্ম ছিল, এবার থেকে দুই প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা ছাউনি থাকবে।
বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে মেট্রোর তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট অর্থাৎ অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ কোটি কম। জোকা–এসপ্ল্যানেড বা পার্পল লাইনে বরাদ্দ হয়েছে ৯০৬.৬০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম। অন্যদিকে ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো বা গ্রিন লাইনে বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, শুধু নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট বা ইয়েলো লাইন নয়, জোকা–এসপ্ল্যানেড প্রকল্পের কাজও কিছুটা থমকে রয়েছে বিধান মার্কেট না সরানোর কারণে। রাজ্যের অনুমতি না মেলায় একাধিক প্রকল্পে গতি আসছে না বলেই দাবি মেট্রো কর্তাদের। সেই কারণেই চলতি বাজেটে মেট্রো প্রকল্পগুলিতে অর্থ বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি বলেও মত তাঁদের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top